Mehreen

From the blog

অবাক শহর ঢাকা।

হিজড়া দুটো  গাড়ির দু পাশের জানালায় প্রথমে আমার নাম ধরে তাদের স্বভাব সুলভ জোর দিয়ে জানালা পিটিয়ে টাকা চাইলেন। একজন আসস্ত করলেন যে আমি টাকা দি না। শুনে অপরজন চরমতম কটুবাক্ক বলে চলে গেলেন। এদিকে আমার ব্যাগ এ একটা  টাকাও নেই।

রাগ দু:খ এক হয়ে গেল। নিজেকে বললাম ওরা অবুঝ। নিজেকে বললাম রাগিশ না। নিজেকে বললাম দরকারি কাজে যাচ্ছ একদম মাথা ঠাণ্ডা রাখ। নিজেকে বললাম আর কারু অপর ঝের না যেন ।

সব সেল্ফ সাজেশন এর মুখে ছাই দিয়ে স্বামী বাহাদুর ও আমার হেল্পিং হ্যান্ড এর সুক্ষ ভুল টা কে আর মার্জনা করা গেল না। বজ্রসম আমার নিশ্চিন্ত চিত্ত  বিহবল হয়ে গেল।

ঢাকাবাসির এমনিতেই প্রচুর পরীক্ষার সম্মুখীন হতে হয় প্রতিদিন। এই বাড়তি উপদ্রব টা নেয়া কঠিন থেকে কঠিনতর হয়ে যাচ্ছে। একটা চুপচাপ দণ্ডায়মান গাড়িটার ভেতর ততোধিক নিরীহ ঘর্মাক্তকলেবর যাত্রীর ওপর এহেন অশ্রাব্য কথা কর্ণকুহর সহ সমগ্র চিত্তকে ৩৬০ ডিগ্রী তে ঘোরপাক খাওয়াতে থাকে। যে শিশুটিকে মধ্যবিত্ত বাবা মা সুন্দর কথা বলা ও শোনা শেখায় সে একটি সুন্দরতম নগরীর প্রধানতম রাজপথ নিশ্চিন্ত চিত্তে পেরুতে পারে না এর দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য কাকে বলতে হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *